ডেস্ক নিউজ : পিরোজপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বর্তমানে অনেকটাই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। শহরের বাইপাস সড়কে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন ও পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে অবস্থিত তিনতলা ভবনটির অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকায় এটি এখন অনেকটা পরিত্যক্ত ভবনের চেহারা ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনতলা ভবনটির প্রতিটি তলায় ছয়টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে নিচতলার মাত্র চারটি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় অবহেলা ও অযত্নে ভবনটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এসব ভবন নির্মাণ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ৪২১টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নির্মিত এসব ভবনের প্রতিটির ব্যয় প্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পিরোজপুর শহরে এখনও অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভাড়া করা আবাসিক ভবনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হলে একদিকে যেমন ভবনটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের সন্তান গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র বলেন, “চলার পথে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি দেখলে খুবই কষ্ট লাগে। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব ভবন নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না। প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ভাড়া বাসায় পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসকে এখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করলে ভবনটির কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য দুটোই রক্ষা পাবে।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, “আমরাও চাই ভবনটি পুরোপুরি চালু থাকুক। তবে অবস্থানগত কারণে এখানে লোকসমাগম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই দোকান বা কক্ষ বরাদ্দ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তারপরও আমরা বিভিন্ন সরকারি অফিসের সঙ্গে কথা বলব, যাতে তারা ভাড়া করা ভবনের পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কক্ষ ব্যবহার করে। বিষয়টি আগামী মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়ও আলোচনা করা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ধরনের স্থাপনার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ ধীরে ধীরে আরও অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।















