জনপথ ডেস্ক : বাগেরহাটের শরণখোলায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির অবস্থান জানতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত নেতাকর্মীরা।
গত ৭ আগস্ট সকালে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহারায় ছিল। এ সময় তারা জানতে পারেন, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের জিমতলা গ্রামে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও তিনবারের ইউপি সদস্য হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন করে অবস্থান করছেন। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
খবর পেয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জিমতলা এলাকায় যাওয়ার পথে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজান হাওলাদার, তার ভাইসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করা কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও সেখানে ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
হামলায় জিয়া পরিষদের শরণখোলা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি বাবু হাওলাদার, ইলিয়াস, রমিজ ও নাহিদ ইসলামসহ ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের প্রথমে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আহত ইলিয়াস বলেন, ‘আমরা ৭ আগস্ট রাস্তায় পাহারায় ছিলাম, যাতে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। এ সময় খবর পাই, জিমতলায় আওয়ামী লীগের এক চিহ্নিত নেতা নাম পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার পথে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজান হাওলাদারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল আমাদের ওপর হামলা করে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমে শরণখোলায় চিকিৎসা নিয়েছি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি আছি।’
অভিযোগের বিষয়ে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন মিলন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ করা হলে তদন্ত করে যে দোষী প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
















