জনপথ ডেস্ক : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নিলতী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র শীল (৪৭) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দীপক চন্দ্র শীল কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের নিলতী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন দীপক চন্দ্র শীল। প্রথমে তাকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্লাটিলেট কমে যায়। পরিবারের দাবি, তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
দীপক চন্দ্র শীলের বাবা বিজয়কৃষ্ণ শীল বলেন, কয়েকদিন ধরে ছেলের জ্বর ছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর তাকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে পিরোজপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পিরোজপুর শীর্ষে রয়েছে। একই দিনে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে। পিরোজপুর জেলা পরিষদ ছয়টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মাসব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, জেলার হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় মশক নিধনের পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।















