ডেস্ক নিউজ: ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা নয়, মশার সম্ভাব্য জন্মস্থান চিহ্নিত করে জেলা জুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি বলেছেন, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় কোথায় পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিতে হবে। এ কাজে গাফিলতি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আবদুর রাজ্জাক–সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ‘রিস্ক কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট (আরসিসিই)’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফের সহযোগিতায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সভাটির আয়োজন করা হয়।
জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আল মাদানি।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি জলাশয়, পুকুর ও অন্যান্য সম্ভাব্য হটস্পট চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসনকে তথ্য দিতে হবে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেন।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত করতে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও আহ্বান জানান।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগী সংগঠন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, পিরোজপুরে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫১২ জন, ভান্ডারিয়ায় ১৯৫ জন এবং নেছারাবাদে ১৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
জেলা তথ্য অফিস জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত সড়ক প্রচারণার পাশাপাশি ইউনিসেফের সহযোগিতায় চলতি মাস থেকে তিন উপজেলায় কমিউনিটি সংলাপ শুরু হয়েছে। এছাড়া বিডি ক্লিন, পজেটিভ পিরোজপুর ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি পরিচালিত হচ্ছে।













