জনপথ ডেস্ক : বরিশাল বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে উদ্বেগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পিরোজপুর। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত আট মাসে ২ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
১০ সেপ্টেম্বর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পিরোজপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর মধ্যে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ৩৫ জন, ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, নাজিরপুরে ১৩ জন, নেছারাবাদে ১২ জন এবং কাউখালী ও মঠবাড়িয়ায় পাঁচজন করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব বলছে, চলতি সময়ে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ৮৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৯৯ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যে পিরোজপুরে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল। অনুসন্ধানে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
কেটে রাখা সুপারি গাছের গোড়া, ডাবের খোসা, নার্সারির টব, বাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন এবং বিভিন্ন নালায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। গ্রামীণ এলাকায় সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানিও এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় পৃথক ওয়ার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য জায়গাতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কোনো কোনো রোগীকে মেঝেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারুফা আক্তার বলেন, চার দিন ধরে জ্বর, দুর্বলতা ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতালে থাকা ও চিকিৎসা নেওয়া দুটোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কেউ কেউ মশারি ব্যবহার করছেন না বলেও দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা জরুরি। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত এনএস১ পরীক্ষার কিট, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইনও সরবরাহ রয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা পরিষদ ও পিরোজপুর পৌরসভা মশা নিধনে স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু স্প্রে করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাড়িঘর, ছাদ, নালা ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।
বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় পিরোজপুর শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের জেলা হিসেবে রয়েছে ঝালকাঠি।












